Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ব্যাটারি কিং ওয়ালটন প্রিমো এইচএম৬ রিভিউ

ওয়ালটনের এইচএম সিরিজের অধীনে সম্প্রতি বাজারে লঞ্চ হয়ে গেলো নতুন একটি স্মার্টফোন প্রিমো এইচএম৬। ফোনটির এখন প্রিসেল চলছে এবং প্রিসেলে স্মার্টফোনটি পাবেন ১০০০ টাকা কমে ৭৮৯৯ টাকায়।

ফোনটি হাতে নিয়ে আপনার কাছে খানিকটা পুরু লাগতে পারে, বস্তুত খানিকটা থিক বা পুরু লাগাই স্বাভাবিক, কেননা স্মার্টফোনটির ভেতর পাবেন ৬০০০ এমএএইচ ক্ষমতার হিউজ ব্যাটারি! স্মার্টফোনটির প্রায় ১০ মিলিমিটার থিক, এবং ওজন প্রায় ২১৫ গ্রাম। ফোনটির ডানদিকে পাবেন ভলিউম রকার এবং পাওয়ার বাটন। পাওয়ার বাটনে সুন্দর একটি কমলা রঙের লাইন কম্বিনেশন লক্ষ্য করতে পারবেন। আর বাম পাশে পাবেন ‘সিম কার্ড ট্রে’ এবং ‘ডেডিকেটেড গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বাটন’। লো বাজেট ফোন হলে কি হবে? ওয়ালটন এই ফোনেও দিয়েছে ডেডিকেটেড গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বাটন, যা কিন্তু আজকাল কাজেই লাগেই!

একনজরে প্রিমো এইচএম৬

  • ৬০০০ এমএএইচ হিউজ ব্যাটারি
  • ৬.৫২ ইঞ্চি এইচডি+ আইপিএস ডিসপ্লে
  • ১.৬ গিগাহার্জ অক্টা-কোর প্রসেসর
  • ২ জিবি র‍্যাম, ৩২ জিবি স্টোরেজ
  • ডেডিকেটেড গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বাটন
  • এন্ড্রয়েড ১০ এর গো সংস্করণ
  • ১৩ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা সেন্সর নিয়ে একটি ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা

ফোনটির নিচে পাবেন একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এবং একটি স্পিকার, অন্য একটি মাইক্রোফোন গ্রিল। আর উপরের দিকে পাচ্ছেন ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক। আর পেছনে বা রিয়ার প্যানেলে পাবেন ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর এবং ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ সম্বলিত ক্যামেরা বাম্প। স্মার্টফোনটির ওজন ডিস্ট্রিবিউশন অনেক সুন্দর এবং হাতে নিয়ে অনেক কমপ্যাক্ট একটি ফিলিং পাবেন। স্মার্টফোনটি সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বিল্ট এবং রিয়ার প্যানেলে দেখা পাবেন ডুয়াল কালার গ্লসি গ্র্যাডিয়েন্ট ফিনিস।

লো বাজেট ফোন হলে কি হবে? স্মার্টফোনের বক্সে আনুসাঙ্গিক অন্যান্য জিনিসাদি দিতে কোন-রকম কার্পণ্য করেনি ওয়ালটন । ফোনটির বক্স খুললে স্মার্টফোনের সাথে আরো পেয়ে যাবেন একটি টিপিইউ কভার, হেডফোন, চার্জিং ও ডেটা কেবল, চার্জিং এডাপ্টার এবং ডিসপ্লে এর সুরক্ষার জন্য একটি স্ক্রিন প্রটেক্টর। যার ফলে নতুন একটা ফোন কেনার পর সেটার কভার, প্রটেক্টর এসবের জন্য বাজার চসে বেড়ানোর কোন দরকার নেই!

এতে ডিসপ্লে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৫২ ইঞ্চি এইচডি+ আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল, যাতে ভিউইং এঙ্গেল নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। ডিসপ্লেটির সাথে এর টাচ রেস্পন্সিভনেসও খুবই ভালো, তবে শুধু দিনের আলোয় হালকা ব্রাইটনেস এর অভাব লক্ষ্য করা যাবে। ডিসপ্লেটির কালারগুলো যথেষ্ট একুরেট, বাইরে আলোয় কিছুটা ফ্যাকাসে মনে হলেও, ইনডোরে দারুন ভিভিড একটা ফিলিংস পাবেন।

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার

স্মার্টফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে পাবেন এন্ড্রয়েড ১০ এর গো সংস্করণ, যা এই স্মার্টফোনকে করে তুলেছে অনেক বেশি লাইট সফটওয়্যার এবং ইউআই এর দিক দিয়ে। আর হার্ডওয়্যার হিসেবে ডিভাইসটিতে পাবেন এআরএম করটেক্স এ৫৫ ভিত্তিক ১.৬ গিগাহার্জ অক্টাকোর সিপিইউ।

এইচএম৬ ডিভাইসটিতে র‍্যাম ব্যবহার করা হয়েছে ২ জিবি এবং ইন্টারনাল স্টোরেজ দেয়া হয়েছে ৩২ জিবি। যেটা এর ডেডিকেটেড মেমোরি কার্ড স্লট ব্যবহার করে ১২৮ জিবি পর্যন্তও বাড়ানো যাবে!

তবে হয়ত ৩ জিবি র‍্যাম দিলে স্মার্টফোনটি আরো বেশি ভালো হত। মূলত যারা বেশি সময় ধরে মাল্টিমিডিয়া কঞ্জাম্পসন করেন এবং বেসিক লেভেলের ইউজার তাদের জন্য এই স্মার্টফোন বানানো। ফোনটির গিকবেঞ্চ স্কোর এসেছে সিঙ্গেল কোরে ১২৯ , মাল্টি কোরে ৪৭৫। এনটুটুতে এর স্কোর এসেছে ৯৬২৬৫।

স্মার্টফোনটি কোন গেমিং ফোন না, তবে টেম্পল রান, ক্যান্ডি ক্রাস, ফ্রুট নিঞ্জা’র মত লাইট গেমস খুব অনায়াসেই খেলতে পারবেন। স্মার্টফোনটিতে স্ট্যান্ডার্ড গ্রাফিক্সে ফ্রিফায়ারও বেশ ভালোভাবে খেলা গিয়েছে; তবে পাব্জি এবং কল অফ ডিউটি খেলার সময় গ্রাফিক্স অটোমেটিক লো পাওয়া গিয়েছে।

ক্যামেরা

স্মার্টফোনটির রিয়ার প্যানেলে দেখা পাবেন ১৩ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা সেন্সর নিয়ে একটি ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ। ক্যামেরাটি স্টেবল হাতে ধরে ভালো ফোকাসে ছবি তুললে বেশ ভালো মানের ছবি পাওয়া যায়। দিনের আলোয় ক্যামেরাটি ভালো ছবি তুলতে সক্ষম, তুলনামূলক কম আলোর থেকে। আউটডোরের জন্য ক্যামেরাটি একদম ঠিকঠাক।

ফোনটির ফ্রন্ট প্যানেলে পাবেন ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট সেলফি শুটার! চলতে ফিরতে টুকটাক সেলফি, অনলাইন ক্লাস কিংবা কোন মিটিং এর জন্য বেশ ভালোই কাজ চলে যাবে এই ক্যামেরা দিয়ে।

ক্যামেরা ইউআই

ব্যাটারি

স্মার্টফোনটির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর হিউজ ব্যাটারি! ফোনটির ভেতর পাবেন ৬০০০ এমএইচ ব্যাটারি! ব্যাটারির সাথে বক্সেও পাওয়া যাবে একটি ১০ ওয়াটের চার্জার। ৬০০০ এমএইচ ব্যাটারি মানে আপনি যদি হেভি ইউজারও হন তবে ২ দিন অনায়াসে চালিয়ে নিতে পারবেন; আর নরমাল ইউজার হলে তো ৩ দিন কথাই না! স্মার্টফোনটির স্ক্রিন অনটাইম প্রায় ১০ ঘন্টার বেশি। ফোনটি এর বক্সে দেয়া চার্জার দিয়ে চার্জ করলে সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘন্টার কাছাকাছি।

পরিশেষে

প্রিমো এইচএম৬ মূলত যারা অনেক বেশি মিডিয়া কঞ্জাম্পসন করবেন, কিংবা অনলাইন ক্লাস করবেন অথবা বাসার বয়স্কদের মানুষদের ব্যবহারের জন্য টার্গেট করে বানানো। যদিও ২ জিবি র‍্যাম অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ; তবে দারুন ডিসপ্লে, চলনসই ক্যামেরা, প্রায় চিনলেস ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স এবং বিগ ব্যাটারি নিয়ে যাদেরকে টার্গেট করে এই স্মার্টফোন বানানো, তাদের খুব একটা সমস্যা হবে বলে মনে হয়না! যদি এই বাজেটের ভেতর আপনার বা কারো কাজ যদি হয় নিয়মিত ফেসবুকিং, অনলাইন ক্লাস, ওয়েব সার্ফিং কিংবা টুকটাক গেমিং সাথে ব্যাটারি নিয়ে ‘নো চিন্তা’ তবে তারা এই স্মার্টফোনের দিকে যেতে পারেন।