Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ওয়ালটন প্রিমো এক্সফাইভ হ্যান্ডস অন রিভিউ ( Primo X5)

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত সম্প্রতি ওয়ালটন এক্স সিরিজের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘প্রিমো এক্সফাইভ’ বাজারে লঞ্চ করেছে। ৬ জিবি র‌্যাম সম্বলিত  ‘প্রিমো এক্সফাইভ’ ওয়ালটনের নিজস্ব ডিজাইন এবং প্রযুক্তিতে ফোনটি তৈরি হয়েছে।এর অসাধারন ডিজাইন আর দারুন ক্যামেরা ও হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন চোখে পড়ার মতো ছিল। ফোনটির মূল্য ২৪,৯৯৯ টাকা মাত্র। আজকে নতুন এ ফোনের বিস্তারিত জানবো।

এক নজরে প্রিমো এক্সফাইভ

  • অ্যান্ড্রোয়েড অরিও ৮.১
  • ৬৪ বিট ২.০ গিগাহার্জ অকটা-কোর প্রসেসর
  • ৬ জিবি এলপিডিডিআর ৪এক্স র‍্যাম; ৬৪ জিবি রম ( ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে )
  • ৫.৯৯ ইঞ্চি ফুল এইচডি  ২.৫ ডি কার্ভড ইনসেল আইপিএস ডিসপ্লে
  • বিএসআই ১৩ মেগাপিক্সেল এবং ৫ মেগাপিক্সেল ডুয়েল অটোফোকাস রিয়ার ক্যামেরা সাথে এলইডি ফ্ল্যাশ
  • ফ্রন্টে বিএসআই ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সাথে সফট এলইডি ফ্ল্যাশ
  • ৩,৪৫০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি

বক্সের মধ্যে যা যা থাকছে

  • প্রিমো এক্স৫ হ্যান্ডসেটটি
  • টাইপ সি হেডফোন কনভার্টার
  • ব্যাককভার
  • এক্সট্রা প্রোটেকশন পেপার
  • অ্যাডাপটার
  • ইউএসবি কেবল
  • ইয়ারফোন
  • সিম কার্ড ইজেক্টর
  • ওয়ারেন্টি কার্ড ও সেফটি ইন্সট্রাকশন

ডিসপ্লে

‘প্রিমো এক্সফাইভ’ ফ্ল্যাগশিপ ফোনে ব্যবহৃত হয়েছে ৫.৯৯ ইঞ্চির ইন-সেল আইপিএস প্রযুক্তির ১৮ঃ৯ রেসিও ফুলভিউ ডিসপ্লে যেটা কিনা  ভিডিও দেখা কিংবা গেমস খেলার অন্যরকম একটি ফিল এনেদিবে। ডিসপ্লেটির সাইড দিয়ে ২.৫ ডি বাঁকানো হওয়ায় এর সৌন্দর্য অনেক গুন বৃদ্ধি করেছে। স্ক্রাচ প্রোটেকটিভ  ডিসপ্লেটি  হলেও, বক্সের ভেতর আলাদা ভাবে থাকবে একটি  স্ক্রাচ প্রোটেকশন পেপার।

ইউজার ইন্টারফেস

ডিভাইসটিতে অপারেটিং সিস্টেমে হিসেবে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ৮.১ ওরিও । এর ইউজার ইন্টারফেস একদম স্টক  অ্যান্ড্রয়েড ৮.১.০ অরিও এর মতই এবং এটা থেকে ব্যবহারকারিরা একদম স্টক এর মত এক্সপেরিয়েন্স পাবেন।

ডিজাইন

প্রিমিয়াম মেটাল ফ্রেম ডিজাইনের ডিভাইসটি লম্বায় ১৫৯.৫৮ মিলিমিটার, প্রস্থে ৭৪.৩ মিলিমিটার। ডিভাইসটির পুরুত্ব ৮.৪ মিলিমিটার। ব্যাটারিসহ এই ডিভাইসটির ওজন ১৬৬ গ্রাম। এর ডিজাইন ওয়ালটনের নিজস্ব ।

হার্ডওয়্যার

হার্ডওয়্যার এর দিক দিয়েও এই ডিভাইসটি বেশ বেশ দৃঢ়। এই ফোনের উচ্চগতি নিশ্চিত করতে আছে ৬৪ বিটের ২ গিগাহার্টজ অক্টাকোর প্রসেসর। গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট হিসেবে রয়েছে মালি-জি ৭১।

এর সঙ্গে ৬ জিবি এলপিডিডিআর৪ এক্স র‍্যাম থাকায় পাওয়া যাবে দারুণ পারফরমেন্স। এর ইন্টারনাল স্টোরেজ ৬৪ জিবি, যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

এনটুটু বেঞ্চ মার্কে এর স্কোর এসেছে ৮৩৯৫৯ এবং গীগবেঞ্চ অ্যাপে সিঙ্গেল কোরে ডিভাইসটির স্কোর এসেছে ৭৯২। আর মাল্টি কোরে এর স্কোর এসেছে ৩৭২২।

‘প্রিমো এক্সফাইভ’ এর শক্তিশালী জিপিউ মালি-জি ৭১ গেমস খেলার অসাধারন অভিজ্ঞতা এনে দিবে।যেকোনো প্রকার অ্যান্ড্রয়েড গেমিং এর জন্য একদম পারফেক্ট।  বর্তমান সময়ের বেশ জনপ্রিয় গেমস যেমনঃ পাবজি, নিড ফর স্পিড- মোস্ট ওয়ান্টেড, আস্পাল্ট ৯, কল অফ ডিউটি ইত্যাদি ৩ডি গেমস এবং সকল প্রকার ২ডি গেমস প্রায় ল্যাগবিহিন ভাবে খেলতে পারবেন।

ক্যামেরা

স্ট্রিট ফটোগ্রাফি  থেকে শুরু করে ন্যাচার ফটোগ্রাফি, লো-লাইট স্নাপ থেকে সান ব্লাসড স্কিন, আপনার প্রতিটি মুহূর্ত ক্যাপচার করুন প্রিমো এক্সফাইব এর ডুয়েল ক্যামেরা দিয়ে। ১৩ মেগাপিক্সেল প্রাইমারী সেন্সর এবং ৫ মেগাপিক্সেল সেকেন্ডারি সেন্সর। দুটিই বিএসআই সেন্সর বিশিষ্ট ক্যামেরা। এছাড়া ও এর এফ ২.০ অ্যাপারচার লো লাইটে ভালো ছবি নিশ্চিত করে এবং নয়েজ তুলনা মূলক অনেক কম। এই রিয়ার প্যানেল ক্যামেরাটি ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল রেজুলেসনে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম এছাড়াও অন্যসব ফোনের মত এতে থাকছে আরো দারুন দারুন ক্যামেরা ফিচারস।  আর সাথে থাকছে অবশ্যই একটি শক্তিশালী এলইডি ফ্ল্যাশ।

আকর্ষণীয় সেলফির জন্য এই ফোনের সামনে রয়েছে সফট এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত এফ ২.০ অ্যাপারচার সাইজের ১৬ মেগাপিক্সেল বিএসআই ক্যামেরা।

কানেকটিভিটি

কানেকটিভিটি ফিচার হিসেবে রয়েছে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ভার্সন ৪, ইউএসবি টাইপ-সি, ওটিজি, ওটিএ এবং ডব্লিউ ল্যান হটস্পট। দুটি ন্যানো সিম ব্যবহারের সুবিধাসম্পন্ন ফোনটি থ্রিজি, ফোরজি এবং সিডিএমএ নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। মেমোরি কার্ডের জন্য রয়েছে আলাদা স্লট।

মাল্টিমিডিয়া

ফোনটিতে ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক করা যাবে। রয়েছে রেকর্ডিংসহ এফএম রেডিও। ডিভাইসটিতে অত্ত্যান্ত উন্নত মানের টপ নচ স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে ; যার ফলে এর লাউড স্পিকারে ব্যবহারকারিরা তাদের পছন্দের গান শুনতে পারবে আরো ক্লিয়ার এবং উন্নত অডিও কোয়ালিটিতে।

সিকিউরিটি

ফোনের তথ্য সুরক্ষায় রয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর ফেস আনলক ফিচার ০.৩ সেকেন্ডে ব্যবহারকারীর মুখাবয়ব রিড করতে পারবে।

রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, প্যাটার্ন লক এবং পাসওয়ার্ডও।  ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের রেসপন্স যথেষ্ট ফাস্ট ছিলো। ০.১ সেকেন্ড অথ্যৎ চোখের পলকেই এটি কাজ করে।

ব্যাটারি এবং ফাস্ট ডাটা ট্রান্সফারিং

সারা দিনের প্রয়োজনীয় পাওয়ার ব্যাকআপ দিতে এতে আছে ৩ হাজার ৪৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। ডিভাইসটিতে ইউএসবি টাইপ সি ব্যাবহার করা হয়েছে এবং ফাস্ট চারজিং, ফাস্ট ডাটা ট্রান্সফারিং এ সকল সুবিধা ও পাওয়া যাবে।

এই ছিল ওয়ালটন প্রিমো এক্স ফাইভ এর বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন। আশা করি এই ডিভাইস সম্পর্কে বিস্তারিত যাবতীয় তথ্য এখান থেকে জানতে পেরেছেন। আর আপনাদের কোনো জিজ্ঞাসা বা কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্টবক্সে আমাদের জানাতে পারেন।