Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

Walton Primo F10 Review : দামে কম মানে ভালো স্মার্টফোন!

দেশের বাজারে দারুন সব সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের জন্য বরাবরই জনপ্রিয় দেশীয় ইলেক্ট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। যেখানে দেশের অধিকাংশ মানুষের ক্রয়সীমা থাকে বাজেট সব স্মার্টফোনের দিকে। আর ঠিক তাদের কথা  ভেবেই ওয়ালটন প্রতিনিয়ত নানা মডেলের সব স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসে।

চিপ এন্ট্রি লেভেল বাজেট স্মার্টফোনের জন্য ওয়ালটনের এফ সিরিজ বরাবরই বেশ জনপ্রিয়। সেই সিরিজের অধীনে ওয়ালটন এবার বাজারে নিয়ে এসেছে নতুন একটি স্মার্টফোন, প্রিমো এফ১০। প্রথমই বলে নিতে হয় স্মার্টফোনটি কাদের জন্য?

মূলত আপনার বাসার বা আপনার কাছের কোন বয়স্কজনের জন্য যদি একটি স্মার্টফোন নিতে, যেটা দিয়ে কিনা মূলত কাজ হবে অনলাইনে যোগাযোগ রক্ষা করা; কিংবা আপনার বাসার ছোটো সোনামনির অনলাইন ক্লাসে যেন কোন বাধা না আসে, সে জন্য একটি বেসিক স্মার্টফোন কেনা; কিংবা আপনার দোকানে নগদ-বিকাশ-রকেট ব্যবসার জন্য একটি আলাদা স্মার্ট ফোন রাখা; আপনার কারনগুলো যদি এমন হয়; তবে এই স্মার্টফোনটি আপনার জন্য!

প্রিমো এফ১০ স্মার্টফোনটির বাজার মূল্য ৫৭৯৯ টাকা। স্মার্টফোনটিতে একনজরে থাকা ফিচারগুলো হচ্ছে,  

  • ৪জি ভোএলটিই সাপোর্ট
  • অ্যান্ড্রয়েড ১০ গো সংস্করণ
  • ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারি
  • ১.৪ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর
  • ১ জিবি র‍্যাম, ১৬ জিবি রম
  • ৫.৯৯ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে
  • ৮ মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সর নিয়ে ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ
  • ফ্রন্টে ৫ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা

স্মার্টফোনটি বাজারে পাওয়া যাবে দারুন কিউট চারটি কালারে। আর এগুলো হলঃ নীল, সবুজ, কালো এবং সোনালি। ৪ টি কালারই একটি আরেকটি থেকে অনন্য, আপনার রুচিশীলতার সাথে সেই কালারটি যায় আপনি চোখ বন্ধ করে সেটি নিতে পারেন। ফোনটির ডান পাশে সাইড প্যানেলে পাবেন ভলিউম রকার এবং পাওয়ার অন-অফ বাটন। নিচের দিকে বটম পজিশনে দেখতে পাবেন মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এবং মাইক্রোফোন হোল। আর উপরে আপার পজিশনে পাবেন একটি ৩.৫ এমএম অডিও জ্যাক। আর স্মার্টফোনটির ব্যাককভার রিমুভেবল; ভেতরে আপনি দুইটি সিম এবং একটি মাইক্রো এসডি কার্ড লাগাতে পারবেন।

অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রিমো এফ১০ পারফেক্ট, কেননা এই স্মার্টফোনে আপনি পাচ্ছেন ৫.৯৯ ইঞ্চি বা ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে। ফুল এইচডি প্লাস আইপিএস না হবার ফলে ভিউইং এঙ্গেল নিয়ে হালকা সমস্যা হতেই পারে; তবে এই দামে ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে এটাই বড় বিষয়।

ইউজার ইন্টারফেসের দিক দিয়ে আপনি ফোনটিতে খুবই লাইট ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং স্টক ফিলিংস পাবেন। কেননা এই ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ১০ এর লাইট তথা গো সংস্করণ। আপনি সকল জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশান এর লাইট ভার্সন গুলো ‘প্রিমো এফ১০’ এ ইন্সটল করলে স্মুথলি চালাতে পারবেন। ফোনটিকে ওয়ার্ক এফিসিয়েন্ট রাখছে একটি ১.৪ গিগাহার্জ বাজ-স্পিডের কোয়াড কোর প্রসেসর; যার সাথে বান্ডেল হিসেবে মিলবে মালি টি-৮২০ জিপিইউ।

আগে চিপ ফোনগুলোতে ১ জিবি র‍্যামের সাথে ৮ জিবি পর্যন্ত ইন্টারনাল স্টোরেজ পাওয়া যেত, তবে এই ফোনে আপনি পাবেন ১৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ। মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনি চাইলে ১২৮ জিবি পর্যন্ত অতিরিক্ত স্টোরেজ এক্সপান্ড করতে পারবেন, এসডি কার্ড ব্যবহার করে। সুতরাং যারা মুভি ফ্রিক আছেন তারা অফুরন্ত মুভি ডাউনলোড করে রাখতে পারবেন।

৮ মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সর নিয়ে স্মার্টফোনটির রিয়ার প্যানেলে পাবেন একটি ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল। ৮ মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সরের পাশাপাশি এতে থাকছে একটি ডেপথ সেন্সিং সেকেন্ডারি সেন্সর। আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে এন্ট্রি লেভেল বাজেট ফোন হলেও, স্মার্টফোনটির রিয়ার ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ড করার ক্ষেত্রে পাবেন, ইআইএস- তথা ইলেক্ট্রনিক ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন ফিচার। ক্যামেরাটি ১০৮০পি রেজুলেশনে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।

পাশাপাশি স্মার্টফোনটির ফ্রন্টে পেয়ে যাবেন একটি ৫ মেগাপিক্সেল সেলফি শুটার। রিয়ারে তো ফ্ল্যাশ আছেই; তবে ফোনের ফ্রন্টেও আপনি পেয়ে যাবেন এলইডি ফ্ল্যাশ। ফোনটির ফ্রন্ট শুটার ৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনে এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে সেলফি তোলার ক্ষেত্রে ‘স্মাইল শট’ নামে বিশেষ এক ফিচার পাবেন; যার মাধ্যমে হাসি দিলেই ছবি উঠে যাবে।

প্রাইমারি সিকিউরিটি ফিচার হিসেবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর তো থাকছেই; তবে সেকন্ডারি সিকিউরিটি ফিচার হিসেবে আপনি ফেস আনলকও সেট করতে পারেন ফোনটিতে।

এই ছিল ওয়ালটনের নতুন বাজেট এফ১০ স্মার্টফোন নিয়ে কিছু কথা। মূলত এই স্মার্টফোন থেকে যদি গেমিং বা হেবি মাল্টিটাস্কিং আশা করেন তবে খুব ভুল হবে। বরং বাসায় যোগাযোগ রক্ষার্থে, টুকটাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনার্থে, কিংবা অনলাইন ক্লাসের জন্য একটি ফোন না হলেই না, তাদের জন্য এই স্মার্টফোন। ফোনটিতে পাবেন ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারি; আর নরমাল ব্যবহারে এই ব্যাটারি দিয়েই খুব অনায়াসে আপনার চলে যাবে। ফোনটি সাথে আপনি ওয়ালটনের অন্যসব ফোনের মত রেগুলার ওয়ারেন্টি ফিচারস পেয়ে যাবেন। তো ফোনটি সামনাসামনি দেখতে কিংবা কিনতে চলে যেতে পারেন আপনার কাছের কোন রিটেইল শপে কিংবা ওয়ালটন প্লাজায়।