Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ওয়ালটনের অফলাইন ভয়েস কমান্ড প্রযুক্তি নিয়ে ১ টনের ওশেনাস এসি

একটা সময় ছিল যখন এসির মত ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র কেনা ছিল মানুষের বিলাসিতা; তবে সময় এখন বদলেছে। গরমের তীব্রতায় এখন ঘরের বাইরে বের হওয়াই যেন দ্বায়! এমন তীব্র তাপদাহের সময় আপনি আপনার প্রতিষ্ঠান কিংবা বাসার জন্য যদি একটি এসি কিনবেন বলে ভাবছেন, তবে একদমই ভুল সিদ্ধান্ত নেন নি!

এসি কিনতে গিয়ে অনেকেরই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। কি এসি, কত ক্যাপাসিটির এসি এরকম আনুসাঙ্গিক অনেক প্রশ্ন আসে। অনেক মানুষ আবার কেবল ব্র্যান্ডমুগ্ধতা থেকে এসি  কিনে বসেন। অনেক বিষয় বিবেচনা না করে এসি কেনার ফলে দিনশেষে ঠকতে হয়, পরে এতো দামি একটি বিনিয়োগকে ফিরিয়েও নেয়া যায় না।

আজকের আর্টিকেলে আমরা দেশীয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট  ওয়ালটনের নতুন ওশেনাস মডেলের একটি এসি নিয়ে আলোচনা করব। এটি ওশেনাস মডেলের একটি স্মার্ট ভয়েস কন্ট্রোল ফিচার সম্বলিত স্মার্ট ইনভার্টার এসি। এসিটির ক্যাপাসিটি ১২০০০ বিটিইউ; মানে ১ টন। এর মডেল নামঃ WSI-OCEANUS(VOICE CONTROL)-12A এবং এসিটির বাজার মূল্যঃ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকা। 

ক্যাপাসিটি

ঘর বেশি চিল করার জন্য কেবল বেশি টনের এসি কিনলেই হবেনা! আপনাকে আপনার ঘরের মাপ অনুসারে যতটুকু দরকার, সেটুকু টনেরই এসি কিনতে হবে। আপনার ঘর যদি ১০০ থেকে ১৫০ স্কয়ার ফিটের মধ্যে হয়, তবে আপনার জন্য ১ টন বা ১২০০০ বিটিইউ ক্যাপাসিটির এসি যথেষ্ট। অনেকে আবার ১টন বা ২টন বলতে এসির সাইজকে বুঝি; তবে ১ টন মানে ১২০০০ বিটিইউ/আওয়ার; একইভাবে ২ টন মানে ২৪০০০ বিটিইউ/আওয়ার। ১ টনের এসি প্রতি ঘণ্টায় ঘর থেকে ১২০০০ বিটিইউ তাপ শোষণ করতে পারে। সেইহিসেবে যত বেশি টন ; তত বেশি তাপ শোষণ ক্ষমতা।

বাইরের দেশের এসি সে দেশের আবহাওয়ার ওপর বিবেচনা করে তৈরি, ওয়ালটন এসি বাংলাদেশের আবহাওয়ার ওপর বিবেচনা করে তৈরি! সুতরাং ওয়ালটন এসি বাইরের ব্র্যান্ডের এসিগুলোর তুলনায় বেশি কার্যকরভাবে তাপ শোষণ এর কাজ করতে পারে।

সাইলেন্ট অপারেশন

বাসার জন্য যখন আপনি একটি এসি কিনবেন, তখন অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, এসিটি সব দিক দিয়ে কতোটা কমফোর্টেবল! কেবল যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ তা কিন্তু নয়; এসিটি যদি ব্যাপক শব্দ উৎপন্ন করে তখন কিন্তু সেটি আরেক বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নন-ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি টেপারেচার পরিবর্তনের সময় শব্দ সৃষ্টি করে। আর নন-ইনভার্টার এসির এই শব্দ অনেক বেশি বিরক্তিকর হয়ে দাড়ায় অনেকের কাছে। তবে ওশেনাস মডেলের এই এসিটি ইনভার্টার প্রযুক্তির হবার কারনে ঘরে বেশ নিঃশব্দে তার কার্য সম্পাদন করবে।

ইকোনমি মোড

এসিটিতে রয়েছে বিশেষ ইকোনমি মোড। যার ফলে এসি এই ইকোনমি মোড অন করলে এটি অন্যান্য নন-ইনভার্টার এসির থেকে ৬০% বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হিসেবে কাজ করবে। এসির রিমোটের  ECO বাটনটি প্রেস করলেই বিশেষ এই মোড চালু হয়ে যাবে।

উন্নত ইনভার্টার প্রযুক্তি  

এসিটিতে পাওয়া যাবে রোটারি ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসর। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি সাধারন ইনভার্টার এসির থেকেও অনেক বেশি কার্যকর। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটি শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে।

একটি এসির কার্যক্ষমতা কতটা ভালো এবং সেটি বাতাসে ঠিক কি পরিমাণে তাপ ছড়াচ্ছে তা নিরূপণের অনেকগুলো বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে এসির COP তথা কো-ইফিসিয়েন্ট অফ পাওয়ার। COP রেটিং যত বেশি হবে সেই এসির পারফর্মেন্স তত বেশি ধরা হবে, COP রেটিং পয়েন্ট মূলত ১.৫ থেকে ৪ এর ভেতর হয়। মূলত COP রেটিং ৩ এর ওপর হলে সেই এসিকে সাশ্রয়ী এবং কার্যক্ষমতার দিক দিয়ে তুলনামূলক ভালো ধরা হয়। আর এই ডায়মন্ড এসিটির COP রেটিং পয়েন্ট ৩.০১। সবমিলিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কমপ্রেসর লাইফ, সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ খরচ, উন্নত মোটর নিয়ে এসিটি ৬০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

ভয়েস কমান্ড 

ওশেনাস সিরিজের এই এসিটির অন্যতম একটি  আকর্ষণীয় সুবিধা হচ্ছে এসিটির ভয়েস কন্ট্রোল ফিচার। ভয়েস কন্ট্রোল ফিচার থাকার ফলে এসিটি পরিচালনা করার জন্য আপনার রিমোট কিংবা স্মার্টফোন অ্যাপস কিছুই প্রয়োজন হবেনা! অনেক এসিতে ভয়েস কন্ট্রোল ফিচার থাকলেও সেটি ইন্টেরনেট নির্ভর; অর্থাৎ ভয়েস কন্ট্রোল সুবিধা নিতে এসিটির ইন্টারনেট তথা বাসার ওয়াইফাই এর সাথে সংযুক্ত থাকতে হয়, এটি অনেক সমস্যাদায়ক, কিন্তু সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে কিনা সেটা একটা বিষয়! তবে ওয়াল্টনের এই এসিটির ভয়েস কন্ট্রোল ফিচারটি সম্পূর্ণ অফলাইন; অর্থাৎ এসিটির কোনোরকম ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত থাকতে হবেনা। যার ফলে একটি গ্রামের ব্যবহারকারীও  অত্যাধুনিক এই সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবে।

যেকোনো সময় ‘হেলো ওয়ালটন’ বললেই এসিটির ভয়েস কমান্ড ফিচারটি এক্টিভেট হয়ে যাবে। এর পর সহজ কিছু কমান্ড ব্যবহার করেই এসিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। উদাহরণ হিসেবে কিছু কমান্ড এরকমঃ 

  • এসি স্টার্ট
  • এসি অফ
  • টুয়েন্টি সিক্স ডিগ্রি
  • সিক্সটিন ডিগ্রি
  • টেম্প আপ
  • টেম্প ডাউন
  • ফ্যান মোড
  • লো স্পীড
  • মিডিয়াম স্পীড ইত্যাদি!

ফ্রস্ট ক্লিন 

এসিটির অন্যতম একটি কার্যকরী প্রযুক্তি হচ্ছে এসিটির ‘ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি’। বেশিরভাগ এসির ইনডোর ইউনিট এর ‘এভাপরেটরে’ ময়লা জমে। এখানে ময়লা জমতে জমতে নানারকম ব্যাকটেরিয়া তথা মাইক্রোঅর্গানিজম’ও জন্ম নেয়। এমনকি সামনের এই অংশে ফাঙ্গাসও জমে! এই জন্য সবাই নিয়মিত এসির ইনডোর ইউনিট খুলে পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে WSI-OCEANUS(VOICE CONTROL)-12A এসিতে থাকা এই ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি এসিটির রিমোট কন্ট্রোলার এর মাধ্যমে চালু করলে, বিশেষ প্রক্রিয়ায় এসিটি নিজে থেকেই এই এভাপরেটর’কে পরিষ্কার করার কাজ করবে; একে শুষ্ক এবং ফাঙ্গাসমুক্ত রাখবে।

রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস

এসি কতটা সাশ্রয়ী, সেটিও অনেকটা নির্ভর করে এসিটিতে কোন রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে তার উপর।  ওশেনাস এসিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-৩২ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এয়ার কন্ডিশনারে আর৪১০এ বেশ মানসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, আর ৩২ তার থেকেও পরিবেশসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। আগে ‘আর২২’ ব্যবহার করা হত যা ছিল অজোন স্তর জন্য খুবই ক্ষতিকর।

যেহেতু গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মত বৈশ্বিক সমস্যার জন্য অন্যতম দ্বায়ী এসির মত ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা আমাদের জন্য বিবেচনায় নেয়া অতীব জরুরি। রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস এর আরেকটি সূচক মাত্রা হল GWP, তথা গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল মান। GWP মান যত কম হবে এসিটি বাতাসে তত কম তাপ উৎপন্ন তথা কার্বন ছাড়বে।R-410A রেফ্রিজারেন্ট এর GWP মান ২০৯০। এবং R-32 রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, এটির GWP মান ৬৭৫।

পরিশেষে

ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি, ৪ স্তরে নানা দিক থেকে অনেক বেশি কার্যক্ষম বলে এসিটি এমনিতেও ৬০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। আর তাছাড়াও এসিটির কমপ্রেসর বিশেষ করে আমাদের দেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে আমাদের দেশের সাপেক্ষে তা অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে অন্যান্য বাইরের এসির তুলনায়।

কেন ওয়ালটন? 

অন্যান্য এসির কমপ্রেসর বাইরের দেশে বিদ্যুত এবং তাদের আবহাওয়ার জন্য তৈরি করা হলেও, ওয়ালটন এসির কমপ্রেসর বিশেষভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং আমাদের দেশের বৈদ্যুতিক ব্যাবস্থার হিসেবে তৈরি করা। এসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কম্পোনেন্ট কমপ্রেসর, অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় অন্তত আমাদের দেশে ওয়ালটনের কমপ্রেসরই বেশি টেকসই এবং বিদ্যুত সাশ্রয়ী হবে, এটা বাস্তবিক।  সুতরাং পরিশেষে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, দেশের টাকা বাইরে না পাঠিয়ে অত্যান্ত উপকারী এই ইলেকট্রনিকস অ্যাপ্লায়েন্স কেনার ক্ষেত্রে সাশ্রয়ের সঙ্গী হয়ে আমরা ওয়ালটন এসিকেই পছন্দ করতে পারি।

ওশেনাস এসিতে আপনি পাবেন ১৬ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত টেম্পারেচার মোড । বাজারের বহু এসিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া যায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে এতে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পাবেন। ওশেনাস এসিটি মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করতে সক্ষম। বহু এসি শুধু সিঙ্গেল ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করে, যার ফলে যারা কেবল এসির সামনে অবস্থান করে  তারাই বাতাস পায়, ঘরের কোনায় কিংবা অন্য কোন স্থানে থাকা ব্যাক্তি বাতাস পায় না। তবে ওশেনাস এসির মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করার সক্ষমতার ফলে সব দিকেই  সমানভাবে শীতল বাতাস প্রবাহিত হবে।

এসিটি দেখতে অবশ্যই আপনার আসেপাশের নিকটস্থ ওয়ালটন ডিলার শো-রুম অথবা ওয়ালটন প্লাজায় চলে যেতে পারেন। অথবা কিনতে এবং নানারকম তথ্য দেখে আসতে পারেন ওয়ালটন ইপ্লাজা থেকে। এসিতে থাকছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। এসির কম্প্রেসরে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আরো পাবেন ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। বর্তমানে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃক পরিচালিত ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সমস্যায় খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাবেন।